বিসিডিএস সভাপতিকে মুঠোফোনে হুমকির অভিযোগ, পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির (বিসিডিএস) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি ডা. মোঃ ইহসানুল ইসলাম (ইহসন)-কে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে সভাপতির পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির সদস্য আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১ নভেম্বর) এ ঘটনার পর কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া ওই কল রেকর্ডে আবু তাহেরকে বর্তমান সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন, না হলে সব হারাবেন। তা না হলে স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেব।’ তবে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটিই জেলা কমিটি অনুমোদন ও গঠন করে থাকে। স্থানীয়ভাবে কমিটি গঠন বা পদ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে জেলা শহরের কালিবাড়িতে অবস্থিত বিসিডিএস ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আবু তাহের। সেখানে তিনি বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় কল রেকর্ডটি স্থানীয় সংবাদকর্মীরা প্রচার করায় সাংবাদিকদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দুঃখ প্রকাশ করে সেখান থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে বিসিডিএস ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি ডা. মোঃ ইহসানুল ইসলাম বলেন, আবু তাহের বর্তমান কমিটির ১০ নম্বর কার্যনির্বাহী সদস্য। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি সহসভাপতির পদ দাবি করে আসছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি ফোন করে সভাপতির পদ ছেড়ে দিতে এবং তাঁকে সভাপতি করার দাবি জানান। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংগঠনের গঠনতন্ত্রবিরোধী। সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আবু তাহেরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

বিসিডিএস ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সভাপতি বলেন, ভবনে সংগঠনের দাপ্তরিক নথিপত্র ও বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। সেখানে যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সরকারের ১৭ বছরেও বিসিডিএসের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে একটি পক্ষ সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ।