ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধান দুই প্রার্থী, ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত

আনোয়ার হোসেন আকাশ,
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ভোট দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁও গড়ায় ভূমিকা রাখুন।’ এ সময় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে সকাল ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ নিঃসন্দেহে উৎসবমুখর। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আগ্রহী।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। ভোট গ্রহণের জন্য ১৮৫টি কেন্দ্রের ৯৮৯টি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১১৩টি, রুহিয়ায় ৩৩টি ও ভুল্লীতে ৩৯টি কেন্দ্র।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে ১১৫টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৭০টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসারসহ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ সদস্য। এছাড়া ৬টি মোবাইল টহল, ২টি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ টিম, ড্রোন, ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট মাঠে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট পর্যবেক্ষণে ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ জন দেশি পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।