ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় শাওন আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শাওন আমিনের বিরুদ্ধে ডিবিতে একটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। মামলাটির নম্বর ৪১/২৪৪, তারিখ ২৪/০৭/২০২৬। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২৫(২)/২৭ ধারা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া আটোয়ারী থানায় শাওন আমিনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাংবাদিক জয় মহন্ত অলকের করা প্রসিকিউশন মামলা রয়েছে তা তদন্তাধীন। এদিকে ঢাকার একটি থানায় তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করার সময়ও তার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবিতে তদন্তাধীন মামলায় আসামি কুঞ্জমোহন পালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার দেওয়া তথ্যের সূত্রে শাওন আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসে। কুঞ্জমোহন পাল বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শাওন আমিনকে জড়িয়ে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে কুঞ্জমোহন পাল দাবি করেন, শাওন আমিন তাকে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত পোস্ট করাতেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির অশ্লীল ছবি পোস্ট করানোর অভিযোগও করেন তিনি। এসব কাজের বিনিময়ে শাওন আমিন তাকে টাকা দিতেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি মেয়ের অশ্লীল ভিডিওও শাওন আমিনের নির্দেশে কুঞ্জমোহন পালের মাধ্যমে পোস্ট করানো হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।
কুঞ্জমোহন পাল আরও দাবি করেন, ‘ঠাকুরগাঁও আপডেট’ ফেসবুক পেজের মূল অ্যাডমিন শাওন আমিন। তিনি কুঞ্জমোহনকে পোস্ট লিখে দিলে শাওন আমিন তা ওই পেজে প্রকাশ করতেন। ভিডিও দেওয়া হলেও সেগুলো পেজে পোস্ট করা হতো। এসব ছবি ও ভিডিও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হতো বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শাওন আমিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব পোস্ট করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করেছেন বা করে। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সবগুলোই বর্তমানে তদন্তাধীন। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছেন এবং তাদের ভূমিকা কী, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এর আগে শাওন আমিনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের হালিশহর থানার সহযোগিতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে ঠাকুরগাঁও ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শাওন আমিনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
শাওন আমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী জানান, অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে আদালত আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। সেদিন জামিনের জন্য আবেদন করা হবে। অপরদিকে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। তা মঞ্জুর হবে কি না। শুনানীর দিন বলা যাবে।