নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় ঘুষের দর-কষাকষির অডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে নতুন মোড় নিয়েছে। এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহারের পর এবার কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকেও বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ওসি সিদ্দিক হোসেনকে কলমাকান্দা থানা থেকে বদলি করে কেন্দুয়ার পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফাকে কলমাকান্দা থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেত্রকোনা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী ছিল। এ সময় পিকআপচালক নাছিম (২৩) ও তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।
তবে অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দুটি অডিও ক্লিপ। সেখানে মামলায় নাম না দেওয়া, জব্দকৃত পণ্যের পরিমাণ কম দেখানো এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন নিয়ে কথাবার্তার অভিযোগ ওঠে। অডিও ফাঁসের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর জেলা পুলিশ প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।