পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দিন পর পূর্ণাঙ্গ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পেয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। গত ২৭ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোঃ আনোয়ার হোসাইন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তেঁতুলিয়াবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক বার্তায় জনবান্ধব প্রশাসন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে দেয়া এই বার্তা দেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন।
ওই বার্তায় নবাগত ইউএনও বলেন, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ও ঐতিহ্য-সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ তেঁতুলিয়ায় দায়িত্ব পালন তার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি একটি বড় অঙ্গীকারেরও।
তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত একজন সেবক হিসেবে তেঁতুলিয়াবাসীর সুখে-দুঃখে, ভালো সময়ে এবং যেকোনো দুর্যোগে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। তার ভাষায়, “এই জনপদের প্রকৃত মালিক আপনারাই। আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাই।
মানুষের কোনো সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারা কিংবা একজন মানুষের জীবনকে সামান্য হলেও সহজ করে দিতে পারাকে দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তেঁতুলিয়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে বেশ কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান নবাগত এই ইউএনও। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার প্রসার, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং নাগরিক জীবনের মানোন্নয়ন।
‘অভিযোগ-সমস্যা নিয়ে সরাসরি জানান,নাগরিকদের জন্য নিজের দপ্তরের দরজা সবসময় উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে আনোয়ার হোসাইন বলেন, বস্তুনিষ্ঠ যেকোনো অভিযোগ, সমস্যা কিংবা পরামর্শ নিয়ে নাগরিকরা সরাসরি তার কাছে আসতে পারবেন।
কোনো নাগরিক সরকারি সেবা গ্রহণে হয়রানি, অনিয়ম কিংবা অসুবিধার শিকার হলে বিনা দ্বিধায় তাকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার দপ্তরের কোনো ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা বা অনিয়ম চোখে পড়লেও সরাসরি অবহিত করার অনুরোধ করেছেন।
তিনি জানান, নাগরিকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো আইনানুগভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনের বাইরে নয়, সেবায় থাকবে অগ্রাধিকার নবাগত ইউএনও তার বার্তায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধিকাংশ কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় আইন, বিধি, পরিপত্র ও নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হয়। তাই আইনের পরিসরের মধ্যে থাকা যৌক্তিক আবেদন ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে কোনো বিষয় আইন বা বিধি দ্বারা অনুমোদিত না হলে ব্যক্তিগতভাবে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার বিপরীতে কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তেঁতুলিয়াবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘আরও সুন্দর তেঁতুলিয়া’। বার্তার শেষাংশে তেঁতুলিয়ার সাধারণ মানুষ, সুধীজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করেন ইউএনও আনোয়ার হোসাইন। পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় তেঁতুলিয়া গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বার্তার শেষে লিখেছেন— “Let’s Build Better Tetulia!”
এদিকে নবাগত ইউএনওর এমন বার্তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা এমন বার্তার পাশাপাশি বাস্তব কাজেও নাগরিকবান্ধব প্রশাসনের প্রতিফলন ঘটবে এবং তেঁতুলিয়ার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় মানুষরা বলছেন,ইউএনওর শূন্য পদটি পূরণ হলেও উপজেলার ১৭টি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট রয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা যেন পায় সেই দাবী করেন তারা।