ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে: ফখরুল কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা

মনসুর আহাম্মেদ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে কেশুর বাড়ী এলাকার তাঁতিদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বড় কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কেশুরবাড়ী তাঁতী পাড়ায় গিয়ে তিনি তাঁতশিল্পীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি দেশের বাজারে তাঁত শিল্পকে পরিচিত করে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠা করার আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের তাঁত শিল্প বর্তমানে ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে। সরকারের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ স্লোগানের আলোকে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ সময় তিনি তাঁতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এলাকায় ব্র্যাক থেকে লোকজন এসে তাঁতশিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। আড়ংয়ের মাধ্যমে তাঁতজাত পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি এবং আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।

নির্বাচনে দেওয়া অঙ্গীকার এর কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার আব্বাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যা হলে ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে জানাবেন, সব কথা আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। তাঁতশিল্প যেন আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই।

এ সময় ড. শামারুহ মির্জা স্থানীয় তাঁতশিল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁতিদের তৈরি কম্বল ক্রয় করেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় তাঁতিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

স্থানীয় তাঁতশিল্পী শ্যামলি রানী বলেন, একসময় এই এলাকায় তাঁতশিল্প খুব জনপ্রিয় ছিল। এখন অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় মানুষ মাঠে-ঘাটে শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছে। যদি আবার এই শিল্প চালু হয়, তাহলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

রবিন্দ নামে এক তাঁতী বলেন, তাঁতের সুতা এখন অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয়, দামও অনেক বেশি। ফলে খরচ বাড়ছে কিন্তু লাভ কমে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে। আমরা আশা করি মহাসচিব স্যারের মেয়ে এ উদ্যোগ নিবেন।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় কেশুর বাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অবহেলা, কাঁচামালের সংকট ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ধীরে ধীরে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমানে অনেক তাঁত অচল হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে ড. শামারুহ মির্জার এই সফর ও সহযোগিতার আশ্বাস নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁতশিল্পীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ আশরাফুল হক, ৪নং বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহিন আলম, বালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গফুর, বড়গাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রমজান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।