আগের অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে ও পরিবর্তনের জন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিনঠাকুরগাঁওয়ে- ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগের অবস্থা থেকে বাংলাদেশে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরী। যে পরিবর্তন আমরা বলছি জুলাই সনদ। আর সে পরিবর্তনের জন্য আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আপনারা ভোটের দিনে প্রার্থীর ভোটের সাথে সাথে গনভোটে অংশগ্রহণ করবেন এবং হ্যাঁ তে ভোট দিবেন। তিনি বুধবার শহরের কালিবাড়িস্থ মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোট ২০২৬ প্রচারণা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি এর আগের সরকারের বিভিন্ন উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা বলেছি যে, ক্ষমতা কুক্ষিগত যাতে না হয়। এটা ক্ষমতার ভাগাভাগি হবে। আমাদের জনগনের ইদানিং আস্থা নষ্ট হয়েছে। এই আস্থা ফেরানোর জন্য যে সমস্ত সংগঠনগুলো আছে, যে সমস্থ সংস্থাগুলো আছে সেখানে একটা নির্বাচন পদ্ধতিতে নিউট্রাল সরকার বসানোর ব্যবস্থা করা। আইন বিভাগ সম্পুর্ন আলাদা করে দেওয়া, বিশেষ করে উচ্চ আদালত। যাতে এখানে কেউ সুবিধাভোগী না হতে পারে। নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা। জাতীয়ভাবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট করা। নির্বাচন ফ্রি এন্ড ফেয়ার করার জন্য যা যা দরকার সেগুলো করা। আমরা চাই না এ রকম একটা ঘটনা ঘটুক। আমরা কি এই করতে থাকবো বাংলাদেশে। বাংলাদেশ বারবার এগিয়ে গেলেও বারবার পিছিয়ে যায়। হা না ভোটের ব্যাপারে কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সংবিধানের পরিবর্তন আমরা করতে পারতাম না। যেহেতু সংবিধান পরিবর্তন করতে হলে সংসদের যেতে হবে, সংসদের প্রতিনিধিদের দ্বারা সংবিধান সংশোধন করতে হবে সে জায়গায় আপনারা যদি হা ভোট বলেন তাহলে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির সে রকম ক্ষমতা থাকবে না যে সংসদে গিয়ে নেগেটিভ কথা বলা। আপনার যদি পরিবর্তন চান তাহলে হ্যাঁ ভোটে সিল দিবেন। কেউ যদি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাহলে ওদের জানাবেন আমরা পরিবর্তন চাই। আপনারা টাকা পয়সার প্রলোভনে যাবেন না। কারণ আপনাদের ভবিষ্যত আছে। সে কারনে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোট দিবেন। এরকম সুযোগ আপনারা সব সময় পাবেন না।

গত ১৫ বছরে আমরা যেগুলো দেখেছি সেই কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত পনেরো বছর যা দেখেছি, সে রকম যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেখানে সরকারের হুকুমে দেশের নাগরিকদের হত্যা করা হয়। সামান্য একটি বিষয় নিয়ে, যে বিষয়টি এত বড় হয়ে গেলো। যেখানে আমাদের তরুন প্রজন্মের শুধু ছাত্রই নয়; সাধারণ জনগনেরও প্রায় ১৪ শ জীবন নেওয়া হলো। এগুলো আমরা নিজের চোখে ঢাকায় দেখেছি। নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস করতাম না। আপনারা হয়তো দেখেছেন মারার পর ভ্যানগাড়িতে চড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম দৃশ্য আমার বয়সে এবং ইতিহাস পরে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। সরকারের উপরের মহল থেকে এমন করা হয়েছে কারণ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা, সারাজীবন ক্ষমতায় থাকা। এই যে অবস্থা যেখানে জনগনের সায় ছিলো না। তিনটা ভোটে মানুষ ভোট দিতেই পারেনি। সেই পরিস্থিতি আমরা দেখাছি। তখন মন্ত্রি পরিষদ থাকা সত্বেও মন্ত্রিরা কোন কাজ করতো না। তখন প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন এদেশের হর্তা-কর্তা, বিধাতা। আপনারা এর আগে সংসদে দেখেছেন যে গান গাওয়া হচ্ছিলো, নাচ হচ্ছিলো একারনে কি আপনারা ভোট দিয়েছিলেন নাকি। আমার মনে হয় উনারা যেভাবে চলছিলেন আর কিছুদিন পরে কি হতো বলা মুশকিল ছিলো। আপনারা হয়তো শুনেছেন যে উনার নামের আগে হযরত লাগানো উচিত। চরম স্বৈরাচারীতা বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা হলো ফ্যাসিবাদ। সবকিছু কুক্ষিগত করা, পার্লামেন্ট, আইন শৃংখলা বাহিনী, এ্যাডমিনিস্ট্রেশন। দ্বিমত হলে আয়নাঘর, খুন, গুম, এটা বিশ্বে কয়েকটা দেশে এমন হয়েছিলো তাদের অবস্থাও পরবর্তিতে আপনারা জানেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) দেলোয়ারা বেগম, ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হোসেন সুমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: খোদাদাদ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: খাইরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষজন।